April 8, 2026, 11:17 am

সংবাদ শিরোনাম
নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ গংগাচড়ায় আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট, আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায়—দাবি, বাস্তবতা ও অপেক্ষার বৈধ কাগজপত্র-হেলমেট ছাড়া মিলবে না জ্বালানি তেল

জনগণকে উন্নয়নের কথা জানাতেই উন্নয়ন মেলা: প্রধানমন্ত্রী

জনগণকে উন্নয়নের কথা জানাতেই উন্নয়ন মেলা: প্রধানমন্ত্রী

mostbet

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

সারাদেশে উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার যে কাজগুলো করেছে ও ভবিষ্যতে করতে যাচ্ছে সে সম্পর্কে জনগণকে ধারণা দিতেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে জেলা-উপজেলায় অনুষ্ঠিত উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনকালে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা বলেন, এ উন্নয়ন মেলায় আজকে যারা সম্পৃক্ত রয়েছেন তাদের বলবো- যে কাজগুলো আমরা করতে পেরেছি এবং যেগুলো ভবিষ্যতে করার পরিকল্পনা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে সেগুলো সম্পর্কে যেমন জনগণকে সচেতন করা দরকার, তেমনি আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় সেজন্য সবার সহযোগিতা একান্তভাবে দরকার। এই উন্নয়ন যেন অব্যাহত থাকে সেই লক্ষ্য নিয়েই এই উন্নয়ন মেলার সূচনা। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। সরকার প্রতিটি গ্রামকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, আজকের বাংলাদেশ তার দেওয়া ঘোষণা মোতাবেক ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপ পরিগ্রহ করেছে। বাংলাদেশের মানুষ আজকে সব ধরনের সেবা পাচ্ছে। মোবাইল ফোন প্রত্যেকটি মানুষের হাতে পৌঁছে গেছে। প্রায় ৮ কোটি জনগণ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের জীবনমানের এই উন্নয়নই তার সরকারের লক্ষ্য। শেখ হাসিনা বলেন, আমি দেশবাসীকে এটুকু বলবো, সরকার যা করে যাচ্ছে, তা হচ্ছে জনগণের উন্নয়ন। গ্রামের মানুষ, তৃণমূলের মানুষের উন্নয়ন। বাংলাদেশকে সমগ্র বিশ্বের দরবারে একটি সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এই উন্নয়ন হচ্ছে। তিনি বলেন, ইনশাল্লাহ, আমরা বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবো। যে স্বপ্ন একদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেখেছিলেন। এ সময় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ। আর অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. নজিবুর রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতেই উন্নয়ন মেলা নিয়ে একটি ভিডিও তথ্যচিত্র পরিবেশিত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বরগুনা, ঝিনাইদহ, হবিগঞ্জ, গাইবান্ধা ও চাঁদপুর জেলার স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। চাঁদপুরে মেলার উদ্বোধন কওে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাঁদপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এ জেলার পদ্মা ও মেঘনা নদী দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ লঞ্চে যাতায়াত করেন। তাই এসব নদীগুলো খনন করে চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে নদী খননের কয়েকটি প্রকল্প চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো নদী খনন করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় চাঁদপুর স্টেডিয়াম মাঠে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি জেলে মানিক দেওয়ান ও কৃষক মিজানুর রহমানের বক্তব্য শোনেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেলে ও কৃষকদের বক্তব্যের মাধ্যমে আমি অনেক কিছু জানতে পেরেছি। কারেন্টজাল যারা তৈরি করেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলে পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য সরকার কাজ করছে। তাদের সন্তানদের শিক্ষিত করে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ শিকার করার জন্য গড়ে তুলতে হবে। কারণ আমরা এখন প্রাইমারি থেকে পিএসডি পর্যন্ত বৃত্তির ব্যবস্থা রেখেছি। আর এসব বৃত্তির টাকা সরাসরি তাদের মোবাইলে চলে যাচ্ছে। বছরের শুরুতে বিনামূল্যে বই দেয়া হচ্ছে। এতে করে জেলেদের সন্তান শিক্ষিত হওয়ার জন্য কোনো সমস্যা নেই। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যায় ফসলের ক্ষতি, আলু সংরক্ষণের অভাবে ও ন্যায্য মূল্য পাওয়ার দাবিতে কৃষক মিজানুর রহমানের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, আলু সংরক্ষণের চেয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণের দিকে গুরুতর দিতে হবে। আলু দিয়ে অনেক কিছু তৈরি করা যায়। এসব পণ্য দেশীয় বাজারে বিক্রি করা যাবে। আমরা এখন প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রতি দৃষ্টি দেব। বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প অনেক সম্ভাবনাময়। চাঁদপুরে পরিকল্পিতভাবে পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে পারেন। কারণ পর্যটন শিল্পে নৌ-ভ্রমণ খুবই আনন্দদায়ক। ইচ্ছে করলে জাহাজে করে পরিবারসহ এসে ভ্রমণ করে সহজেই গন্তব্যে চলে যেতে পারবেন। চাঁদপুরে যে পদ্মা-মেঘনার মিলনস্থল তা দেখার জন্য আমরা ছোট বেলায় আগ্রহসহ অপেক্ষায় থাকতাম। চাঁদপুর ঘাটে জাহাজ এলে হাড়িতে করে মিষ্টি আনা হত। পেট চুক্তি খাবার ছিল। তবে জাহাজের হুচাল দিলে খাবার রেখে অনেকে চলে যেত যোগ করেন- প্রধানমন্ত্রী। চাঁদপুরের সার্বিক উন্নয়নের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. আবদুস সবুর ম-ল। প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের বিবরণ শুনে প্রশংসা করেন এবং বলেন চাঁদপুরে চাঁদের হাট বসেছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনি, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওসমান গণি পাটওয়ারী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক মির্জা জাকির প্রমুখ।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর